Sunday, 5 April 2020

নিকষ কালো By AUmitrakkhor





Original Song: Paper Rhyme

Covered by AUMITRAKKHOR

উপকূল এক্সপ্রেস, ময়লা গেঞ্জি এবং আমি


আমি অনেক জেলা , অনেক জায়গা ঘুরেছি , মিশেছি অনেক লোকের সাথে। তবুও শ্রেণীভেদে মানুষের সাথে মানুষের জীবন অনেক জটিল এক অঙ্ক। এই অঙ্ক কষা কিন্তু সহজ কথা নয়। এত বেলা কেটে গেলো , অথচ কিছুই মিলেনি এই হিসাবের । একবার সেমিস্টার ব্রেকে চিন্তা করলাম , দিন মজুর দের সাথে সারাটা পথ একসাথে যাবো। ট্রেনে উঠার পাদানি কিংবা ট্রেনের ইঞ্জিনে করে এর আগে অনেক বার ঘুরেছি অনেক জায়গায়। হয়ত আমার বা আমাদের কাছে এটা সচরাচর না এবং খুবই রোমাঞ্চকর, কিন্তু যাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশই এই অস্বাভাবিকতা, তাদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে পুরো প্রেক্ষাপট টা দেখতে কি আমাদের চোখে লাগা উদ্দাম তারুণ্যের আলোর মতই রঙ্গিন ? নাকি এই অধ্যায় অনেক চাপা কষ্টের ম্লান আর্তনাদের নিশ্চুপ কোলাহল।

কেমন করেই বা তাদের সাথে অজানা পথিকের চোখাচোখি হয় , অথবা স্বাভাবিকতার বলয় থেকে বেরিয়ে কি তাদের দিকে ঘৃণার দৃষ্টিবাণ নিক্ষেপ করে সবাই ?

উঠে গেলাম এয়ারপোর্ট স্টেশান থেকে উপকূল এক্সপ্রেস এ, একটা ময়লা ছেঁড়া গেঞ্জি পরে । কিছুদুর যেতেই দেখলাম  একটা ছেলে গান গাইছে একটা থালার মত জিনিস পেটাতে পেটাতে। ছেলেটা অসম্ভব সুন্দর গাইছিলো, আর তবলা মত থালা পেটাচ্ছিলো। কিন্তু সবাই তার দিকে এক করূনার দৃষ্টি নিয়ে বদ্ধ ট্রেনে তাকিয়ে ছিল তার অন্ধ ঝাপসা চোখ দুটোর দিকে। আপি তার পিছু নিলাম । তার গান শুনতে শুনতে তিন বগি পার হলাম মানুষের ভিড় এড়িয়ে। কিন্তু তার মত এত সূক্ষ্ণভাবে এই ভিড়ের মাঝে হনহন করে হাটতে পারলাম না ।তার গান ও আস্তে আস্তে মিলিয়ে এলো।

এর পর গিয়ে বসলাম দড়জার কাছে বস্তানিয়ে বসা কয়েকজন দিনমজুর ভাই দের সাথে। বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন জিনিস সাঁই করে চলে যায় , আর তা নিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু মন্তব্য করেও আলোচনা জমলো না। তাই বাধ্য হয়ে তাদের সাথে চুপ করে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলাম এক দৃষ্টিতে। প্রথমে বিরক্তি লাগলেও পরমুহূর্তেই ট্রেনের চাকার তালের সাথে সকল কিছুর পেছনে ছুটে যাওয়ার একটা অন্তমিল উপভোগ করতে লাগলাম ।

এর পর বিভিন্ন স্টেশানে তারাও সবাই নেমে গেলেন। রইলেন বাকি একজন । সরল মনে জিজ্ঞেস করলাম কই যাবেন ? আঁতকে উঠে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষন । বুঝলাম গড়মিল হয়ে গিয়েছে কোথাও। কোথায় হয়েছে ? ও হ্যাঁ, আমার লেবাসের সাথে প্রমিত ভাষার কথা মেবি তালগোল পাকিয়ে ফেলছিল। বলল নোয়াখালী ।বুঝলাম একদম শেষ স্টেশান পর্যন্ত তাহলে কথা বার্তা বলার মত একজন ভাই কে পাওয়া গেলো । এইবেলা আমার ছুড়ে দেওয়া নানার কথার জবাব দিচ্ছেন তিনিও।

অনেক পরে রাতের দিকে দেখলাম ট্রেনের ঝিক ঝিক আওয়াজ ভেদ করে বগির ভেতর থেকে মানুষের আওয়াজ আসছে। দেখলাম সবাই খুব ভয়ে ভয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের চাঁদা দিচ্ছে। একে একে সবার কাছ থেকে নিল। এর পর বগি পার হওয়ার সময় আমাদের দিকে তাকালো । আমরা ট্রেনের দড়জায় পাদানিতে বসে মাথা ঘুরে তাদের কান্ডকারখানা দেখছিলাম আর দেখতে চাইলাম আমার সাথের এই লোক কিভাবে ওদের জবাব দেয় । কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে ওরা আমাদের থেকে টাকা না নিয়েই চলে গেলো।

জিজ্ঞেস করলাম ,' আমাদের থেকে টাকা নিলোনা কেন ?"
মুচকি হেসে ওই লোক জবাব দিলেন তারাও চেহারা দেখে বুঝে কার কাছে টাকা আছে আর কার কাছে নাই। তার এই জবাব শুনে বুঝলাম তাদের এই জাজমেন্ট পুরোটাই পোশাক নির্ভর। হঠাত করে পোশাক কে  ভাত খাওয়ানোর গল্পটা মনে পড়ে গেলো।

মেঘমুক্ত আকাশের তারারাও আমাদের সবার সাথে ছুটে চলছে। খুব গান শুনতে ইচ্ছা করছিল। তখনই এক ভিক্ষুক একটা গজল গাইতে গাইতে পাশ দিয়ে চলে গেলো।
আমি তার দিকে না ফিরে আকাশে টিম টিম করে জলতে থাকা একটা তারার দিকে তাকিয়ে রইলাম অপলক। ট্রেন ছুটে চলেছে আপন বেগে...............

রিফাত আহাম্মেদ
২০১৭

গোলার্ধের দীর্ঘতম রাত


সকাল সকাল কানের কাছে মোবাইলে এলার্ম টোন সেট করা গলা টিপে ধরে রাখা মুরগির কর্কশ আর্তনাদে ঘুম যত না অলসতায় ভাঙলো, এর চেয়েও দশগুন বেগে হাত গিয়ে অটোমেটিক মোবাইল তুলে এলার্ম বন্ধ করে দিল। দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। আমি শুয়েই থাকি, এই মুরগির গলা টিপে মেরে ফেলা আমার হাত অটোমেটিক ই করে এখন। তবে আবার পরমূহুর্তেই আরেকটা মুরগি ডাকে "ক্রক্রিক্রিউ ক্যান.... "

ও, আজ পরীক্ষা ছিল। সকাল ৮ টায়। ফাইনাল পরীক্ষা। DLD ( ডিজিটাল লজিক ডিজাইন)। ডি এল ডি বলতে গেলে ডালডার কথা মাথায় আসে,তখনই আমাদের মাসার নিচের চুল্লার চা দোকানের ডালডা দিয়ে তৈরী করা পরোটার কথা মনে পড়ে যায়। আহা! কি আবেদনময়ী পরোটা। শালার....

এই নির্বাসিত জীবনে অগত্যা আমাকে একটা মুরগীর ডিম মাথার বদলে কড়াইয়ে ফাটিয়ে ভেজে ডাল দিয়ে সাদা ভাত মেরে সময়ের কথা চিন্তা করে টয়লেটের মায়া বিসর্জন দিয়ে গুটি গুটি পা এ ভার্সিটির পানে ছুটলাম।

পরীক্ষা দিতে বসে দেখলাম এই পৃথিবীর বিষাদগ্রস্হ মেঘময় এক মুখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার গায়ের মধ্যে লেখা Ans every question.

চারিদিকে সবাই কত ক্সছে, কিন্তু কত দূরে।
এদিকে সেদিকে কলমের খচখচ। কারো বিন্দুমাত্র সময় নেই প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করার। পুরো হলে আমিই সবচেয়ে বেশি চিন্তা করছি প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে।

কলমের কালি যখন শেষ হচ্ছেনা একফোটাও, তখন নানা রকম জীবনমুখি বিজনেস আইডিয়া আমার মাথায় ঘুরছে, ঘুরছে ভার্সিটি থেকে পাশ না করলে কি কি করতে হবে, কিভাবে স্যাটেল হওয়া যায়, কি কি জিনিস শুরু করা যায় এইসব হাঙ্কি পাঙ্কি।

হল থেকে বের হয়ে দেখি সবার মন খারাপ। চুপ করে দাড়ালাম তাদের পাশে। তারা সবাই আপসেট কারণ এই ইজি প্রশ্নে নাকি তারা দুই একটা আন্সার ফুলমার্ক শিউর করতে পারেনাই।
আস্তে করে "তোজ্জিবন" বলে পাশ কাটিয়ে চলে এলাম চা গিলতে।

বাসায় যাইতে দেখি লোর্দমাক্ত পথে পা দেই এক দিকে পা সাইই করে আমার অগ্রগতির মত নিচের দিকে চলে যাচ্ছে স্লিপ করে।

বাসায় এসে দিলাম ঘুম। নামাজ মিস যেন না হয় এজন্য ল্যাপটপের সর্বোচ্চ ব্যাবহার করলাম ল্যাপটপে এলার্ম সেট করে ল্যাপটপ চালাই রেখে। খুবই ইফিশিয়েন্ট একটা সল্যুশান।

নামাজ পড়লাম বাংলাদেশ ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার শামিম হাসান এর সাথে। সবাই দেখি পশ্চিম দিকে হাত দিয়ে মুনাজাত ধরে উত্তর দিকে খোমা ৯০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে ওনার দিকে তাকাই বলতেসে,"দেখ দেখ "
উনি মেবি একটু ইতস্তত বোধ করছিলেন। আমি কিন্তু তাকাই নাই৷ আমি চারপাশের সবার দিকে তাকাচ্ছিলাম।

বাসায় এসে ভাত খেয়ে আবার ঘুমালাম। উঠে দেখি রাত হয়ে গেছে৷ মধ্যাহ্ন বিরতীর পরের ঘুমেই দিনের ইনিংস শেষ। পরে জানলাম আজ (২১ শে ডিসেম্বর) শুরু হওয়া রাত এই গোলার্ধের সবচেয়ে দীর্ঘতম রাত।

খবর টা শুনেই যারা বিয়ে শাদি করলো আজ, তাদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে কোন এক দিন তাদের ক্লাবে ঢোকার ইচ্ছা ঠিক করে রাখলাম।

আজ রাতে গান গাইবো
"নির্ঘুম চোখ জানালায় আমি নিজেকে শুনাই নিজের গান "

আক্ষরিক অর্থেই নির্ঘুম। কারণ, দিনে ধুমসে ঘুম গেসি। অথচ একজন ব্যাচেলর হিসেবে রাত টার সদব্যাবহার করা উচিৎ ছিল।।সব উলটা পালটা। যেমন আজকের দিনটার দিন আর মাসের ডিজিট ( 21 / 12 / 2018 )

-- রিফাত আহাম্মেদ
২১.১২.২০১৮

দ্যা ব্লিস, অন্যসময় ও রুপকের জন্য ভালোবাসা



নাইন্টিজ এর ছেলেমেয়েদের কাছে অনেক কিছুই খুব সাদামাটা অথচ খুবই তীব্র আবেগের ভালোবাসামাখা বস্তু। এই যেমন বিটিভির ইত্যাদি, বিকেল বেলার ক্রিকেট, অথবা নতুন নতুন কম্পিউটার চেনা চোখ দুটোয় সবুজ নীলের মিশেলে মায়াবি এক ওয়ালপেপার।
না না,তখনো যান্ত্রিকতা গ্রাস করেনি সবাইকে। তোলা কাপড় চোপড় অথবা বিছানার চাদরের মত কম্পিউটার ও তোলা যন্ত্র, যা যখন তখন ধরা যায় না, অনেক্ষন পড়ালেখার পর একটুখানি গেইম খেলার জন্য নিজের ধৈর্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে পড়ার টেবিলে বসে থাকতে হত।

আমার জন্য সেই সময়ের উইন্ডোজ কম্পিউটারে ডিফল্ট ওয়ালপেপার "দ্যা ব্লিস" টা ও চরম ভালোবাসায় মোড়ানো ছিল। ১৯৯৮ এ চার্লস ও রেয়ার এর রেয়ার একটা ফ্রেম,অথচ যেটি তিনি তুলেছিলেন প্রেমিকার সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময়। নাপা ভ্যালীর পথে হুট করে গাড়ি থামিয়ে রৌদ্রজ্জল দিনে নতুন আসা আঙ্গুরের আঙ্গুরক্ষেতের ছবি তুললেন,যেই ছবিটা পরবর্তীতে কোটি মানুষ দেখেছে, যেই ছবিকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিবার দেখা আলোকচিত্র।


পরম ভালোবাসার এই ছবিটায় রৌদ্রজ্জল দিন যেমন সত্য,তেমনি সত্য এই পটভূমি এখন ধূসর হয়ে যাওয়ার। এখন ক্যালিফোর্নিয়ার সোনোমা কান্ট্রিতে এই সবুজ সাজানো উজ্জ্বল দিনের ছবি কি দেখা যায়? এক পলকেই তো স্মৃতির জানালায় উকি দেয়। তাইনা?

হ্যা,যেমনটা অন্যসময় এলবামের কাভারে সেই চিরচেনা "দ্যা ব্লিস" উকি দিচ্ছে। মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে,ওপারে রুপক কেমন আছে, আমাদের এই দিক থেকে দেখা ধূসর পৃথিবীর ওপারে নিশ্চই আলো ঝলমলে এক সবুজ ঘাসের চাদর উকি দেয়। ভালো থাকো রুপক ওপারে। অনেক অনেক ভালোবাসা।


.......তোমার চোখের দূরের আকাশ মিশে থাকে
রূপক হয়ে,
তোমার জন্য বিষণ্ণ এক নিথর হৃদয়
আমার ভেতর দাঁড়ায় সরব একা।
তোমার পৃথিবী স্বর্গের মত চির অদেখা........
 সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা


রিফাত আহাম্মেদ
ফেব্রুয়ারী ১৪ , ২০১৯

বাংলা সংস্কৃতির অতীত ,ভবিষ্যত,ঢাকা কলকাতা কিংবা বিচ্ছিরি বিতর্ক


কি বিচ্ছিরি এবং বিভৎস
এই মতামতের পাশে ব্র্যাকেটে ব্যাক্তিগত মতামত লিখে দেওয়ারও কোন প্রয়োজন আশা করি নেই।
বিতর্ক করতে কাকে কাকে নেওয়া হয়েছে,তাদের ভাষাগত জ্ঞ্যানের পরিধি কতকটুকু সেগুলো নিয়েও কোন কথা নেই, কথা হল এইটা কোন বিতর্ক করার মত বিষয় হল?
একদমই খুবই সুস্পষ্টভাবে একটা বিভাজন রেখা টেনে দিলেন ,জিওগ্রাফিক লাইন টাকে ভাষার মাঝে নিয়ে আসলেন। হ্যাঁ, এইসব আলোচনা ত আসলেই সার্বজনিন ট্যাবু, এটাকে সেক্স এডুকেশানের মত ভুল ট্যাবু হিসেবে চিহ্নিত করে আবার একটা মঞ্চ করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফেলেছেন। বাহ !



ভাষা তার নিজের গতিতেই চলছে, পরিবর্তিত হচ্ছে । এটা নিয়ে এসবের কোন অর্থ আমি খুজে পাই না। কয় দিন আগে ইউটিউবের আরেক চ্যানেলে লোকজন কে ধরে ধরে টেবিল এর বাংলা, চেয়ারের বাংলা জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, সেই ভিডিওর কাভারে আবার লেখা "আমরা কি বাংলা পারি?" এরকম কিছু । দয়া করে নবম দশম শ্রেণীর প্রথম অধ্যায়ের পারিভাষিক শব্দ এর অংশ টুকু পড়বেন। ব্যাকরণ এর পার্ট অনেকেই না পড়ে চলে যায়, SSC তে ব্যাকরণ থেকে শুধু MCQ আসে তো,তাই বুঝাও যায় না এই ৫০ মার্কে প্রাপ্ত নম্বর কি বুঝে পড়ে এসেছে নাকি দৈবচয়নে বৃত্ত বেছে নেওয়ার ফল । যাকগে, কারো মেধার নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলতে চাই না, আমি নিতান্তই তুচ্ছ একটা মানুষ। শুধু বলব, যখন দুই বাংলার ভাষা দু বাংলার কাছেই এত আপনা আর দুই যমজ ভাই বা বোনের মত, সেখানে এই বিতর্ক দেখার পর লোকজন নিজের দেশের বাইরে কারো মুখে বাংলা সাহিত্য নিয়ে কথা শুনলে আগে জিজ্ঞেস করবে আপনার দেশ কোনটা, এর পর আলোচনা সামনে আগাবে নাকি সেখানেই বিদায় নিবে,এই দৃশ্য কল্পনা করে গায়ে কাটা দিচ্ছে।
যাই গান শুনি,
"আমি বাংলায় কথা কই............"



ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১৯

Portrait


Bassbaba Sumon ( Aurthohin)




Shishir (Aurthohin )


Mark Don ( Aurthohin)


Nipu Vai


Nazmul


Akib


Trinoy


Sonet Saha


Somrat


Nitu


Sufi ( Arbovirus)


Sumon ( Aurthohin)

Oni Hasan ( Warfaze)

Cartoon And illustration







































নারী -নাজমুস্ শাহাদাত


আদিকাল হতে বঞ্চনার শিকার
স্রষ্টার সৃষ্টি এ নারী জাতি ।
শৈশবের পরিচিত পরিবেশ থেকে
শিখে নেয় নিঃস্বার্থ হওয়া ।

তাই, বোন ভাইয়ের পাতে হৃষ্ট চিত্তে
তুলে দেয় মাছের মুড়ো,
ত্যাগের আনন্দে আপ্লুত হয়ে
নিজ পাতে তুলে নেয় কাঁটাযুক্ত লেজটা।

পুরুষের লজ্জা থাকা নাকি বেমানান
আর নারীর নাকি ভূষণই লজ্জা ।
তাই ত্রয়োদশীর দ্বারে যৌবন যখন
করাঘাত করে, তখন ঋতুবতী
কষ্টে হয় বিব্রত, লজ্জায়
লজ্জাবতী লতার মত ম্রিয়মাণ হয়ে যায়।

জন্ম থেকে আঠারো বিশ বছরের
পরিচিত পরিবেশকে ছেড়ে অন্য কোথাও
নারীকে চলে আসতে হয়
'বিয়ে' নামক নিষ্ঠুর নিয়মের বেড়ী পরে।

এত বছরের স্মৃতি বিজড়িত
বড় পুকুরের সান বাধানো ঘাট,
পশ্চিম পুকুর পাড়ের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ
দক্ষিণ বাড়ির নূরীর মা, মনুর মা বুড়ি,
বিড়াল, কুকুর, সব পর হয়ে যায় তার।



তারপর কত বিনিদ্র প্রহর কেটে যায়
স্মৃতিরা ঝাপসা হয়ে আসে,
স্বামীর বাড়িকে নিজের করে ভাবে,
বিসর্জনের আনন্দে অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দেয়।
মা, বাবা, ভাই, বোন বলে সবাইকে জানে,
কিন্তু তাকে ডাকা হয় বৌমা, ভাবি,অমুকের মা বলে।
একসময় নিজের নামটুকুও মুছে যায় ।

আদিকাল হতে বঞ্চনার শিকার
স্রষ্টার সৃষ্টি এই নারী জাতি।
যৌবনবতী বিধবা হলে কাটিয়ে দেয়
নিরাভরণা, শুভ্র বসনা হয়ে বাকী জীবন।
আর স্ত্রী বিয়োগের পর পৌঢ় পুরুষ
নতুনের আনন্দে দিন গুনে শিহরিত হয়।
নারীর চাওয়া পাওয়ার দাবী বেহায়াপনা,
আর পুরুষের সংসার টিকিয়ে রাখার অজুহাত।

এক নারী অন্য নারীকে সহ্য করতে পারে না,
তাই শাশুড়ি-বউ, ননদ-ভাবির খিটিমিটি অহরহ।

হে নারী, নিজেকে ভালোবাসতে শেখো,
শেখো অন্য নারীকে ভালোবাসতে;
তাহলে একটু হলেও দুঃখ যাবে কমে।

-নাজমুস্ শাহাদাত

দুঃস্বপ্নেরা -নাজমুস্ শাহাদাত


একটি সুখ স্বপ্ন দেখবো বলে ভাবি।
কোন প্রিয়জনের হাত ধরে পথ চলেছি,
মাথার উপর নীল আকাশ, দু'ধারে সবুজ গাছ ।
স্বপ্নের মাঝে অন্তত থাকবেনা কোন জটিলতা,
পাব নির্ভয়ের আশ্বাস ।
সমস্যা শঙ্কুল জীবন থেকে পালিয়ে পাব একটু শান্তি ।


কিন্তু দুঃস্বপ্নেরা এসে অামাকে ঘিরে ফেলে,
ভয়ার্ত করে তোলে আমাকে।
ঘামাতে ঘামাতে ঘুম ভেঙে যায় ।
দুঃস্বপ্নেরা আসে কখনো দেহহীন কাটা মুন্ডু হয়ে,
কখনো বালিকার মৃত লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত ।
ধর্ষিত শিশুর রক্তাক্ত দেহ, বস্তাবন্দী তরুণীর
গলিত শবদেহ মরা নদীর বাঁকে ।
আকাশ ছোঁয়া কোন সিঁড়িহীন অট্টালিকা থেকে
নামার পথ খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে যাই কখনো।
কখনো তাড়া খাওয়া কুকুরের মত অস্রধারী
দুর্বৃত্তের ধাওয়ায় দৌড়তে দৌড়তে পা অবশ হয়ে আসে ।


ভয়ার্ত চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে যায় ।
জীবন এক বিক্ষুব্ধ ফেনিল সমুদ্র,
এখানে সুখ স্বপ্নের স্থান নেই,
তেড়ে বেড়ায় ভয়ার্ত দুঃস্বপ্নেরা।




-নাজমুস্ শাহাদাত

তোমাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী -নাজমুস্ শাহাদাত


হে বীর সেনারা স্বাধীনতার তরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে,
ক্ষমতা লোলুপ পাক হায়েনা পশুদের অস্ত্রের মুখে।
ঘাটিতে ঘাটিতে ঘুরে ছিলে অমিত ত্যজে,
ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর নিদ্রাকে উপেক্ষা করে।
নিকষ কালো রাতের আঁধারে হামাগুড়ি দিয়ে,
অসীম সাহসে শত্রু সেনার উপর পড়েছ ঝাঁপিয়ে ।
পদ ব্রজে হেঁটেছ গ্রামের পর গ্রাম,
ধুলাবালি, কাদামাটি, ঝড়বৃষ্টি মেখেছ গায়ে।
কত সাথীদের লাশ কাঁধে নিয়ে ফিরেছ,
সারি সারি কত প্রিয়জনের লাশ শুইয়ে দিয়েছ।
শত্রুর এমজির গুলিতে ঝাঁঝরা হতে দেখেছ
মুক্তিযোদ্ধা টিটোর বুক,
'বাঁচতে চাই, স্বাধীনতা দেখতে চাই'
চিৎকার শুনেছ টিটোর।
যুদ্ধ করতে করতে পানিতে সদ্য পড়ে থাকা
মানিকের নিঃসাড় তপ্ত দেহ দেখেছ।
অ্যামবুশে ঢোকা শত্রুবাহিনী কে
তড়িৎ গতিতে পজিশন নিয়ে ঘায়েল করেছ।
মৃত্যুকে অতিক্রম করে স্বাধীনতার
লাল সূর্যটাকে ছিনিয়ে এনেছ,
বাংলাদেশ আর লাল সবুজের পতাকা আমাদের দিয়েছ।
আমাদের তোমরা এতো দিয়েছ,
তাই তোমাদের জন্য রলো শ্রদ্ধাঞ্জলী ।


শহীদ সেলিনা পারভীন কিংবা আমাদের মনি আপা -নাজমুস শাহাদাত


গ্রামের একটা স্কুলে শিক্ষকতা করি। পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা পড়াই।পড়াচ্ছিলাম লেখক শফিউল আলমের লেখা- "আমরা তোমাদের ভুলবো না।"
সমস্ত শ্রেনী কক্ষ সুনসান নীরব । গমগম কন্ঠে আদর্শ পাঠ দিচ্ছিলাম। শিশুরাও সেই মহান ব্যক্তিদের কথা কান পেতে টানটান হয়ে শুনছে।

জেদি অন্যায়ের প্রতি আপসহীন এক লৌহমানবীর ছবি।
আমাকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকতে দেখে শিশুরা আমার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে তাকাল। ছবিটি দেখিয়ে বললাম, এ আমার বোনের ছবি। আমার বড় ফুফুর মেয়ে। ওরা অবাক হয়ে অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে তাকাল।
বললাম, 'শোন তারা তো কারো না কারো বোন,মা,ভাই,বাবা।'
স্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে গেলাম। সেই বহুদিন আগে কি যেন একটা কাজে তার ছেলে সুমনকে নিয়ে মামা, মানে আমার আব্বার কাছে এসেছিলেন ।
আমরা তখন সোনাপুর। আব্বা থানা পশুপালন কর্মকর্তা । সুমন ছিলো শুকনো তালপাতার সেপাই। আমাদেরই বয়সী। তবে মনি আপা সারাক্ষণই ওকে নিয়মনীতির ভেতর বেধে রাখতেন। অল্প ক'দিনের জন্য এসেও ওকে পড়াতে বসতেন। নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন, গোসল করাতেন, মাঝে মধ্যে দেখতাম গানও শেখাতেন।
কত ছোট ছিলাম, তারপরও মনে আছে তার কি সুশৃঙ্খল জীবন চলা। কি স্মার্ট, মুখে গাম্ভীর্যের প্রলেপ, কিন্তু মুখখানা হাসি হাসি। জর্জেট শাড়ি পরতেন সবসময়।
মনি আপা স্পষ্টবাদী, অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করতেন। কিন্তু এ লৌহমানবীর ভেতরে ছিল এক কোমল মমতার ঝরনা।

একদিন আমাদের বাসায় কড়া নাড়ছিলো এক ভিখারিনী। কোলে ছোট একটা বাচ্চা। মা মেয়েটাকে চিনতেন,তাই ধমকে উঠলেন। বাচ্চাটা অবৈধ, তাই কেউ তেমন সাহায্য করত না। বরং দেখলেই ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নিত।
সবাইকে অবাক করে দিয়ে মনি আপা মেয়েটাকে ব্যাগ থেকে কিছু টাকা দিলেন ও মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। মেয়েটার গমন পথের দিকে চেয়ে বললেন, "পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়।'' আব্বা শুনে বললেন, 'এসব কারণে তোকে কেউ দেখতে পারে না।'
তিনি হাসলেন । সে হাসি নিপীড়িত জনতার জন্য ভালোবাসার নিষ্পাপ হাসি।
মনি আপা চলে গেলেন সুমনকে নিয়ে ঢাকায় ।
আর তার সঙ্গে দেখা হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। আমরা সোনাপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিই। ঢাকা থেকে মনি আপার ছোট বোন কুটু বুবু, তার ছেলে নান্নু, মেয়ে কঙ্কা আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তার ছোট ভাই খোকন দাদা, বউ, শালী রুহী তারাও ফেনী থেকে আসে । ফুফু আম্মা, মনি আপা বা সুমন আসেনি ।
যুদ্ধ শেষ হলে সবাই যে যার আবাসস্থলে ফিরে যায়। দেশ স্বাধীন হলে আমরা খবর পাই, মনি আপাকে এক গাড়ি আর্মি এসে বাসা থেকে নিয়ে যায়।
তিনি তখন রান্না করছিলেন। হাতে গামছা ছিলো, তা দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তোলে। তাকে ঘাতকের দল নৃশংস ভাবে হত্যা করে । বুদ্ধিজীবী নিধনের নীল নকশার তালিকায় তার নাম ছিল।
১৯৭২ সালে আমার একটা বোন হয়। আমরা মনি আপার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার নাম রাখি সেলিনা পারভীন ।
মনি আপার এরকম করুন মৃত্যুতে ফুফু খুবই ভেঙে পড়েন। এ সময় সুমন ওর বাচ্চু মামার বাসায় থাকত। আব্বা গিয়ে ফুফুকে সোনাপুর নিয়ে আসেন । ফুফুর কাছে আমরা মনি আপা ও সুমনের অনেক খবর পাই।
তিনি আসার সময় মনি আপার কিছু জর্জেট শাড়ি নিয়ে আসেন, যা আমরা শুঁকে বলতাম, "মনি আপার গন্ধ ।"
এত বছর পর আমার চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। গর্বে বুকটা ফুলে উঠল। শ্রদ্ধায় মাথাটা নত হয়ে এলো। মনের অজান্তেই বললাম, "এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলবো না।"
উপলব্ধি করলাম, এ দেশের জন্য জীবন দিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, আর বেঁচে গাজি হয়ে ফিরে এসেছেন তারা আকাশের চেয়েও সীমাহীন সম্মানের অধিকারী। যারা তাদের হত্যা করেছে, হত্যায় সহযোগিতা করেছে তারাই অভিশপ্ত, ঘৃণিত ।

মাতাল নদীর রোদ ও পিংক ফ্লয়েড

এক লোক ট্রল করে ফেবু তে এই লোকের গাওয়া পিংক ফ্লয়েডের উইশ ইউ আর হিয়ার এর বাংলা ভার্শান দিলো ।  বাট আমার গান টা অসম্ভব ভালো লাগে । এক ধরণের ঘো...